1. admin@ajkerbangla24.com : admin :
শনিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২১, ০৯:১৩ পূর্বাহ্ন

শাহজাদপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একজন শিক্ষক দিয়ে চলছে পাঠদান

মোঃ আলমগীর মিয়া, সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
  • আপডেট সময় : রবিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২১
  • ৪৪ বার পঠিত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহজাদপুর পূর্ব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশু থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত একজন শিক্ষক দিয়ে চলছে পাঠদান কার্যক্রম।
বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী রয়েছে ১৭৪ জন। একটি ক্লাসে শিক্ষক গেলে অন্য ক্লাসগুলো ফাঁকা থাকে। যার ফলে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের দিয়েও ক্লাস চলে। এভাবেই ২০১৮ সাল থেকে একজন শিক্ষক দিয়ে চলছে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদ শুন্য থাকায় সেখানে সহকারি শিক্ষক নার্গিস আক্তার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি মাঝেমধ্যে বিদ্যালয়ে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর দিয়ে এক-দুই ঘণ্টা পর চলে যান।
নার্গিস আক্তারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগযোগ করলে তিনি জানান, অফিসের কাজে উপজেলা শিক্ষা অফিসে এসেছি।
বিদ্যালয়টিতে নয়জন শিক্ষকের পদ থাকা সত্বেও কর্মরত রয়েছে মাত্র চারজন শিক্ষক। তাদের মধ্যে সহকারী শিক্ষক মনি দাস গত আগস্ট থেকে মাতৃত্বকালীন ছুটিতে রয়েছেন। সহকারী শিক্ষক জয়ন্ত কুমার ধর উপজেলা শিক্ষা অফিসে কম্পিউটার অপারেটরের দায়িত্ব পালন করেন। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান করাচ্ছেন সহকারী শিক্ষক শেফালী বেগম। অথচ উপজেলা সদরের আশপাশের বিদ্যালয়গুলোতে রয়েছে আট-নয়জন করে শিক্ষক।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী টিনা আক্তার একটি ক্লাস নিচ্ছে। শিক্ষক না থাকায় সে মাঝেমধ্যে ক্লাসে পড়ায়।
অভিভাবকদের অভিযোগ, এ বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট থাকা সত্ত্বেও সহকারি শিক্ষক জয়ন্ত কুমার ধরকে উপজেলা শিক্ষা অফিসে নেওয়া হয়েছে। যার কারণে বিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম বেঘাত ঘটছে এবং শিক্ষার্থীরা স্কুল ছেড়ে কিণ্ডার গার্ডেন স্কুলে ভর্তি হচ্ছে।
বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট থাকলেও শিক্ষা অফিসার কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না বলে অভিভাবকরা অভিযোগ করেন।
সহকারী শিক্ষক জয়ন্ত কুমার ধর ২৭ মার্চ ২০১৭ সালে অত্র বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকে তিনি বিদ্যালয়ে আসেন না। স্কুলের শিক্ষকদের হাজিরা খাতায় সহকারী শিক্ষক জয়ন্ত কুমার ধরের নাম লেখা থাকলেও করোনার সময়ের পর বিদ্যালয় খোলা সময়ে হাজিরা খাতায় উপস্থিতির স্বাক্ষর নেই। তিনি উপজেলা শিক্ষা অফিসের বড় কর্তার খেদমতে রয়েছেন। জয়ন্ত কুমারের মতো আরও কয়েকটি বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও উপজেলা শিক্ষা অফিসে সময় দেন।
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী টিনা আক্তার জানায়, শিশু থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত একজন শিক্ষকই ক্লাস নিচ্ছেন। অনেক সময় ম্যাডাম আমাদের পড়া দিয়ে আবার অন্য ক্লাসে চলে যান। এ জন্য স্যার আমাদের পড়া ভালোভাবে আদায় করার আগেই ক্লাসের সময় চলে যায়। সামনে আমাদের পরীক্ষা, প্রস্তুতিও নেই তেমনটা। স্যার কম থাকায় অনেক ছাত্র অন্য বিদ্যালয়ে চলে গেছে। শিক্ষক না থাকায় পড়ালেখার অনেক ক্ষতি হচ্ছে বলেও তারা জানায়।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক জয়ন্ত ধর বলেন, আমাকে উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবদুল আজিজ সাহেব শিক্ষা অফিসের কম্পিউটার অপারেটরের কাজ করাচ্ছেন। আমার উর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসেবে যে নির্দেশ দেন তা আমার পালন করতে হয়।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ে পরিচালনা কমিটির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম খাদেম বলেন, ‘বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট ও শিক্ষকদের অনুপস্থিতি বহু দিন ধরে। এ সমস্যার জন্য স্কুলটিতে লেখাপড়া একেবারেই হচ্ছে না। এলাকার অভিভাবকরা শিক্ষক অনুপস্থিত থাকার জন্য আমার কাছে অনেক অভিযোগ করায় এ বিষয়টি নিয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে বহুবার আলোচনা করেছি। তবুও তারা নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসেন না।’
সরাইল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবদুল আজিজ বলেন, ‘একজন শিক্ষক দ্বারা বিদ্যালয়ের পাঠদান চলছে এ বিষয়টি আমার জানা ছিল না। উপজেলা শিক্ষা অফিসে জনবল কম থাকায় মৌখিক নির্দেশে এই বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক জয়ন্ত কুমার ধরকে উপজেলা শিক্ষা অফিসের কাজ করানো হচ্ছে। দেশে নতুন করে শিক্ষক নিয়োগ হলে এ সমস্যা সমাধান করা যাবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২১ আজকের বাংলা ২৪
Themes customized By Theme Park BD