1. admin@ajkerbangla24.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ০৭:০২ অপরাহ্ন

জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অর্থচাহিদার স্বীকৃতি দাবি প্রধানমন্ত্রীর

আজকের বাংলা ডেস্ক
  • আপডেট সময় : সোমবার, ১ নভেম্বর, ২০২১
  • ৫৮ বার পঠিত

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কার্বন নিঃসরণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ সিভিএফ-এর ৪৮ সদস্য দেশগুলোর জন্য জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় তহবিল চাহিদার বিষয়টির স্বীকৃতি দাবি করেছেন বিশ্বের ধনী দেশগুলোর কাছে।
সিভিএফ-এর সদস্য ৪৮টি দেশ বিশ্বে ৫ শতাংশেরও কম কার্বন নিঃসরণ করে। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব এসব দেশে জীবন ও জীবিকার জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করেছে।
জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নে সিভিএফ এবং কমনওয়েলথ দেশগুলোর যৌথ পদক্ষেপের পাশাপাশি বাস্তবসম্মত, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং স্থানীয়ভাবে প্রধান্য দিয়ে সমাধান খুঁজে বের করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
তিনি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন এখন একটি বৈশ্বিক এবং আন্তঃসীমান্ত সমস্যা এবং এর মারাত্মক পরিণতি থেকে কোনো দেশই মুক্ত নয়।’
আজ সোমবার স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে কোপ-২৬ সম্মেলনস্থলের কমনওয়েলথ প্যাভিলিয়নে ‘সিভিএফ-কমনওয়েলথ হাই-লেভেল ডিসকাসন অন ক্লাইমেট প্রসপারিটি পার্টনারশিপ’ শীর্ষক আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, জলবায়ু দুর্যোগের ক্রমবর্ধমান সংখ্যা এবং এই সবের প্রভাব নাজুক দেশগুলোকে অপূরণীয় ক্ষতির অগ্রভাগে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী খাদ্য, জ্বালানি, স্বাস্থ্য এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করছে। এ প্রসঙ্গে, তিনি সাম্প্রতিক আন্তঃসরকারি প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইপিসিসি) রিপোর্টের উল্লেখ করেন যা একটি স্পষ্ট বার্তা দেয় যে, এই গ্রহ এবং ভবিষ্যত প্রজন্মকে বাঁচাতে সকলকে জরুরি এবং সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে।
এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি সিভিএফ সদস্য দেশ কমনওয়েলথের সদস্য এবং এসব দেশের জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং অবদানের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, যৌথ প্রচেষ্টা সিভিএফ এবং কমনওয়েলথ সদস্য দেশগুলো প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নে অনুঘটক হিসেবে কাজ করতে পারে।’
সিভিএফ-এর চেয়ার শেখ হাসিনা সিভিএফ এবং কমনওয়েলথের মধ্যে কার্যকর সহযোগিতার জন্য ছয় দফা প্রস্তাব পেশ করেন।
প্রস্তাবের প্রথম দফায় তিনি বলেন, আমাদের সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের জন্য টেকসই, সবুজ এবং প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান অর্জনে আমাদের মধ্যে জ্ঞান ভাগ করে নেওয়া, গবেষণা এবং সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি স্থানান্তর বাড়াতে হবে।
দ্বিতীয় দফায় তিনি বলেন, আমাদের অভিন্ন অবস্থান প্যারিস চুক্তিতে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, উন্নত দেশগুলোকে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য জলবায়ু অর্থায়নের লক্ষ্যে বার্ষিক ১০০ বিলিয়ন ডলার সুরক্ষিত করতে আমাদের সাহায্য করতে পারে। জলবায়ু অর্থায়ন হতে হবে বিদ্যমান এবং ভবিষ্যত ওডিএ’র অতিরিক্ত। এই পরিমাণটি অভিযোজন এবং প্রশমনের মধ্যে ৫০:৫০ অনুপাতের সঙ্গে বরাদ্দ করা উচিত।
তৃতীয়ত, তিনি বলেন, জলবায়ু অভিবাসীদের সমস্যা-জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, নদীভাঙন, বন্যা এবং খরার কারণে মানুষ তাদের পৈতৃক ভিটা এবং ঐতিহ্যবাহী পেশা থেকে চ্যুত হয়েছে, যা আলোচনা করা দরকার এবং এইসব মানুষের পুনর্বাসনের জন্য বিশ্বব্যাপী দায়িত্ব নিতে হবে।
চতুর্থ দফায়, তিনি বলেন, ‘আমাদের ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপ বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রিতে রাখতে তাদের উচ্চাভিলাষী এবং আগ্রাসী এনডিসি ঘোষণা করতে প্রধান নির্গমনকারী দেশগুলোর ওপর চাপ হিসাবে কাজ করতে পারে।’ এছাড়া জ্বালানির প্রয়োজনীয়তা মেটানোসহ সাশ্রয়ী মূল্যে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ প্রযুক্তি হন্তান্তর করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রধানমন্ত্রী পঞ্চম দফায় বলেন, একই সাথে সিভিএফ এবং কমনওয়েলথ সদস্যদের উন্নয়ন চাহিদা বিবেচনায় নিতে হবে। তিনি বলেন, সর্বোপরি একসাথে আমাদেরকে অবশ্যই জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাস্তবসম্মত, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং স্থানীয়ভাবে পরিচালিত সমাধানগুলি খুঁজে বের করার চেষ্টা করতে হবে।
তিনি বলেন, সিভিএফ-এর ৪৮ সদস্য দেশগুলো মোট বৈশ্বিক নির্গমনের মাত্র ৫ শতাংশের জন্য দায়ী, অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব আমাদের জীবন ও জীবিকার জন্য মৌলিক হুমকি সৃষ্টি করেছে।
তিনি আরও বলেন, অধিকন্তু, কোভিড-১৯ মহামারী আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের শক্তিশালী, সাহসী এবং দায়িত্বশীল পদক্ষেপের জন্য কার্যকর সহযোগিতা এবং সহযোগিতার তাৎপর্য প্রমাণ করেছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে পর্যাপ্ত জলবায়ু অর্থায়ন এবং প্রযুক্তি হন্তান্তরের জন্য আমাদের দুর্বলতা এবং প্রয়োজনীয়তা অবশ্যই স্বীকৃতি দিতে হবে।
এই প্রসঙ্গে, তিনি বলেন, প্রধান নির্গমনকারী দেশগুলোকে ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় আমাদের সমর্থন করার জন্য তাদের বাধ্যবাধকতা’ পূরণ করতে হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের জন্য বাংলাদেশকে প্রায়ই গ্রাউন্ড জিরো বলা হয়। আমাদের দুর্বলতা এবং সম্পদের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও, আমরা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় অনুকরণীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। তিনি একটি উচ্চাভিলাষী এবং হালনাগাদ এনডিসি’রও উল্লেখ করেন, যা সম্প্রতি বাংলাদেশ ইউএনএফসিসিসিতে জমা দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ উন্নয়নে স্বল্প-কার্বন পথ অনুসরণ করে জলবায়ুর দুর্বলতাকে জলবায়ু সমৃদ্ধিতে রূপান্তরিত করতে ‘মুজিব জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনা’ চালু করেছে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কমনওয়েলথ মহাসচিব প্যাট্রিসিয়া স্কটল্যান্ড (চধঃৎরপরধ ঝপড়ঃষধহফ)।
জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনে (কপ-২৬) যোগ দিতে বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইন্সের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইটে রবিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে ঢাকা থেকে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী।
গ্লাসগোতে অবস্থানকালে জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে সোচ্চার ‘ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম’ প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কপ-২৬ সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্ব এবং রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের বক্তব্য প্রদান সেশন ছাড়াও সাইড লাইনে অনেকগুলো ইভেন্টে অংশ নেবেন। পাশাপাশি শেখ হাসিনা বিভিন্ন রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান এবং বিভিন্ন সংস্থা প্রধানগণের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন।
গ্লাসগোতে অবস্থানের দিনগুলোতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পর্যাসয়ক্রমে কমনওয়েলথ মহাসচিব প্যাট্রিসিয়া স্কটল্যান্ড, শ্রীলংকার রাষ্ট্রপতি গোটাবায়া রাজাপাকশে, বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস এর প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস, স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার নিকোলা স্টারজিয়ন, ব্রিটিশ রাজসিংহাসনের উত্তরাধিকারী প্রিন্স চার্লস, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন, অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর স্কট মরিসন, স্কটিশ পার্লামেন্টের স্পিকার অ্যালিসন জনস্টোনের বৈঠক করবেন।
গ্লাসগো সফর শেষে বুধবার (০৩ নভেম্বর) দুপুরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইটে লন্ডন যাবেন প্রধানমন্ত্রী। লন্ডনে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ শেষে ৯ নভেম্বর বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইন্সের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইটে দ্বিপাক্ষিক সফরে প্যারিস যাবেন তিনি।
প্যারিস সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং দেশটির প্রধানমন্ত্রী জিন ক্যাটেক্স (ঔবধহ ঈধংঃবী) এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন।
এছাড়াও ফ্রান্স সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইউনেস্কো সদর দপ্তরে ‘ইউনেস্কো-বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজ ফর দ্য ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ বিতরণ অনুষ্ঠান এবং ইউনেস্কোর ৭৫তম বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। আগামী ১৪ নভেম্বর দেশে ফেরার কথা প্রধানমন্ত্রীর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২১ আজকের বাংলা ২৪
Themes customized By Theme Park BD