1. admin@ajkerbangla24.com : admin :
সোমবার, ২৭ জুন ২০২২, ১২:১৪ অপরাহ্ন

খাবার পানির সংকটে মাগুরা সদর হাসপাতাল

আব্দুল আজিজ, মাগুরা
  • আপডেট সময় : শুক্রবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২১
  • ৯১ বার পঠিত

‘সকালে তিনবার আসছি, দেখেন কল আছে, ডান্ডি নাই। এখন পানি উঠাব কী করে? গতকাল রোগী আনছি সেই তালখড়ি থেকে। আমরা গরিব মানুষ পানি কিনে খাওয়ার সাধ্য নাই। এখন এই কনে কনে শীতে যাব পানি আনতি? এত বড় হাসপাতাল, হাজার হাজার মানুষ, টিউবওয়েল মাত্র একটি! এটা কি হয়?’

মাগুরা ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতাল মর্গের পাশে এমন করেই নিজের আক্ষেপের কথা জানান কবির হোসেন। হাসপাতালে স্ত্রী ও মাকে নিয়ে এসেছেন। সঙ্গে রয়েছে নিজের দুই শিশু সন্তান ও বোন। স্ত্রী ও মাকে সেবা-যত্ন করতে তাকে হাসপাতালে ঘুরতে হচ্ছে। বিপত্তিতে পড়েছেন খাবার পানি নিয়ে। হাসপাতালে খাবার পানির টিউবওয়েলের কথা জানতে চাইলে পুরোনো রোগীরা তাকে উত্তর পাশের এই চাপকলটি দেখিয়ে দেয়। এখন দেখেন কলে চাপ দেওয়ার লম্বা লোহাটি খোলা।

রিমা খাতুন নিয়ে এসেছেন থালাবাসন একই চাপকলে। জামাই অসুস্থ। মেয়ে ও তার একটি বাচ্চা হাসপাতালে তিন দিন। কিন্তু পানির সমস্যা যায় না। হাসপাতালে কয়েকটি জায়গাতে ফিল্টার পানির ব্যবস্থা থাকলেও তা এত বড় হাসপাতালে এত মানুষের জোগান দিতে পারে না।

এ ধরনের ভোগান্তি প্রতিদিনের বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের কয়েকজন কর্মচারী। তারা ঢাকাটাইমস বলেন, ‘রোগীর চাপ এখন শীতের সময় কম, তবে যখন বেশি থাকে, তখন তাদের পানির সংকট থাকে। সরকারি হাসপাতালে তো গরিব মানুষই বেশি আসেন। তাদের সবার পানি কিনে খাওয়ার অবস্থা থাকে না। এ ছাড়া অনেক রোগী আছেন, যারা অনেক দিন হাসপাতালে থাকেন। তাদের সঙ্গে স্বজনেরা থাকেন। কাপড় থেকে শুরু করে থালাবাসন ধোয়াটা খুব কঠিন। অনেকে ক্ষোভ দেখান, কিন্তু দেখা ছাড়া আমাদের কিছু করার নেই।’

সদর হাসপাতালের নতুন ভবনের পাশেই পুরোনো ভবন। সেই ভবনের পশ্চিম পাশে ছিল আগের জরুরি বিভাগ। এর পেছনে একটি টিউবওয়েলে একজনকে গোসল করতে দেখা যায়। সিয়াম নামে যুবকটি এক রোগীর স্বজন।

তিনি জানান, এর পানি খাওয়া যায় না। বিশ্রি গন্ধ আর আয়রনভরা। শুধু গোসল করা যায়। এ ছাড়া হাসপাতালের উত্তর পাশের কর্মচারী কোয়ার্টারে একটি টিউবওয়েল আছে, তার মাথা খুলে রাখে ওখানকার বাসিন্দারা। তাহলে আমরা যাবটা কোথায়, বলেন? চিকিৎসা নিতি এসে আমরা নিজেরাই পানির অভাবে অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি।

মাগুরা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. বিকাশ শিকদার বলেন, ‘টিউবওয়েল একটি আছে হাসপাতালের উত্তর পাশে মর্গের দেয়াল ঘেঁষে। ওটা ছাড়াও রোগীদের জন্য একটি আছে পুরোনো জরুরি বিভাগের পেছনে। রোগী প্রচুর, তাই সব বিষয়ে আসলে নজর দেওয়া সম্ভব হয় না। ফিল্টার পানির ব্যবস্থা আছে হাসপাতালের ভেতরে। ইচ্ছা করলে রোগীরা সেটাও ব্যবহার করছে। তবে টিউবওয়েল আরও কয়েকটি দরকার। সেটা আমরা দেখছি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২১ আজকের বাংলা ২৪
Themes customized By Theme Park BD