1. admin@ajkerbangla24.com : admin :
রবিবার, ২২ মে ২০২২, ০১:১০ পূর্বাহ্ন

নারায়ণগঞ্জে ভোটের লড়াই শুরু

আজকের বাংলা
  • আপডেট সময় : রবিবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২২
  • ২৬ বার পঠিত

ডেস্ক রিপোর্ট : বহুল আলোচিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। রোববার (১৬ জানুয়ারি) সকাল ৮টায় শুরু হওয়া এ ভোট চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। এই নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে লড়ছেন বিএনপির বিভিন্ন পদ থেকে অব্যাহতি পাওয়া স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার।

নির্বাচনের সবরকম প্রচার-প্রচারণা শেষ হয়েছে ঘড়ির কাঁটায় ১৫ জানুয়ারি শুরুর পর থেকেই। এর আগে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী ও অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারসহ সব প্রার্থী পথসভা, গণসংযোগ, গণমিছিলসহ নানা কর্মসূচি পালন করেন। প্রার্থীরা ভোট টানতে নানা ধরনের প্রতিশ্রুতি দেন। তবে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে ভোটের আগে হয়রানিমূলক গ্রেফতার বন্ধের দাবি জানান তৈমূর। বহিরাগতরা যেন নির্বাচনী এলাকায় না থাকতে পারে, সে জন্য নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপও চান তিনি।

রোববারের এই ভোটে জিতলে নারায়ণগঞ্জের মেয়র হিসেবে হ্যাটট্রিক করবেন আইভী। ২০১১ সালে নির্দলীয় ভোটে আওয়ামী লীগের নেতাদের সমর্থনপুষ্ট এ কে এম শামীম ওসমানকে এক লাখের বেশি ভোটে হারিয়ে দেশের প্রথম নারী মেয়র হয়েছিলেন তিনি।

পরের বার ২০১৬ সালে দলীয় প্রতীকে আওয়ামী লীগের নৌকা নিয়ে আইভী বিএনপির প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন খানকে পৌনে এক লাখ ভোটে হারান। নারায়ণগঞ্জের মেয়র নির্বাচিত হওয়ার আগে আইভী আট বছর নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।

এবারের নির্বাচনে এই হেভিওয়েট প্রার্থীর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে তৈমূর আলম খন্দকারকে দেখা হচ্ছে। তার প্রতীক হাতি। নির্বাচনে নেমে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টার পদ হারানো তৈমূর ২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন। পরে দলের নির্দেশে ভোট থেকে সরে দাঁড়ান। তবে বিএনপির এই নেতা এবার দলীয় নির্দেশ অমান্য করেই ভোটের মাঠে নেমেছেন। আছেন প্রথমবারের মতো নারায়ণগঞ্জের নগরপিতা হওয়ার আশায়।

প্রচারণার শেষ দিনে স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকার বন্দরের ২৪ নম্বর ওয়ার্ড কবিলার মোড়ে পথসভা করেন। তিনি বলেন, হাতি প্রতীকের পক্ষে গণজোয়ার তৈরি হয়েছে। ১৮ বছরের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে পরিবর্তন চায় নারায়ণগঞ্জবাসী।

এদিকে নির্বাচন উপলক্ষে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়েছে নারায়ণগঞ্জ নগরীকে। ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোট প্রদানের আহ্বান জানিয়েছে জেলা পুলিশ-প্রশাসন। শনিবার রাত থেকেই নগরীর নিরাপত্তা জোরদার করতে মাঠে নেমেছে ১৮ প্লাটুন বিজিবি। নির্বাচনী সহিংসতা এড়াতে প্রতিটি ওয়ার্ড ও ভোটকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরশেনের সদর, সিদ্ধিরগঞ্জ ও কদমরসুল অঞ্চলের ২৭টি ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা পাঁচ লাখ ১৭ হাজার ৩৫৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার দুই লাখ ৫৯ হাজার ৮৩৪ জন, নারী ভোটার দুই লাখ ৫৭ হাজার ৫১৯ জন ও তৃতীয় লিঙ্গের চারজন। ২৭টি ওয়ার্ডে ১৯২টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। ভোটকক্ষের সংখ্যা এক হাজার ৩৩৩ ও অস্থায়ী ভোটকক্ষের সংখ্যা ৯৫টি। প্রতিটি অঞ্চলে একজন করে প্রিসাইডিং অফিসার থাকবেন। একইসঙ্গে তিনটি ওয়ার্ডে একজন করে মোট ৯ জন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার থাকবেন।

অন্যদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্বাচনের দিন কেন্দ্রগুলোতে ৩০ জন ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন। প্রতিটি ওয়ার্ডে তিনজন অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ।

তিনি জানান, প্রতিটি কেন্দ্রকেই সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শনিবার রাতেই নারায়ণগঞ্জে ১৮ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া র‌্যাবের ১০০ টিম, সাদা পোশাকে পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ মাঠে থাকবে। এখন পর্যন্ত নির্বাচনী পরিবেশে আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নির্বাচনের দিন যেকোনো ধরনের সহিংসতা এড়াতে আমাদের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হচ্ছে।

জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যেই পুলিশ, সাদা পোশাকে পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশসহ তিনটি স্তুরে পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম। তিনি জানান, নির্বাচনী পরিবেশ উৎসবমুখর। কিন্তু কয়েকটি ওয়ার্ডে সমস্যা আছে। যা খুব জটিল কিছু না। নির্বাচনকে কেন্দ্র এমন কিছু এলাকা এরকম থাকে। তারপরও আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি। কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে। প্রতিটি কেন্দ্রকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে ৩০টি কেন্দ্রকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ভোটের দিন নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ছাড়া কেউ চলাচল করতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার (এসপি)।

তিনি বলেছেন, আমাদের তরফ থেকে নির্বাচনী কোনো সহিংসতার আশঙ্কা নেই। নির্বাচনের দিন কোনো বহিরাগতকে নারায়ণগঞ্জে প্রবেশ করতে দেবো না। ভোটের দিন সবাইকে জাতীয় পরিচয়পত্র দেখে চলাচল করতে দেওয়া হবে।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের শুরু থেকেই সরকারি দলের মেয়র প্রার্থী নৌকা প্রতীকের ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে। নির্বাচনে মেয়র পদে সাতজন, সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডে ৩৪ জন এবং সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ১৪৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২১ আজকের বাংলা ২৪
Themes customized By Theme Park BD