1. admin@ajkerbangla24.com : admin :
সোমবার, ২৭ জুন ২০২২, ০৬:২৩ অপরাহ্ন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে এক বছরে সাড়ে ৫৬ কোটি টাকার মাদক উদ্ধার

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : সোমবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২২
  • ১১২ বার পঠিত

চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাদকাসক্তের সংখ্যা কত তার সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই। মাদকের ছোবলে কত পরিবারের আশা-আকাঙ্ক্ষা ভেঙে গেছে তারও সঠিক হিসাব নেই। প্রতিদিন যে পরিমাণ মাদকদ্রব্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে জব্দ হয়, এতে একটা ধারণা পাওয়া যায় ডালপালা মেলে কতটা বিস্তৃত হয়েছে মাদক কারবারীদের নেটওয়ার্ক।

ভৌগোলিক কারণেই চাঁপাইনবাবগঞ্জ মাদকের ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এটি সীমান্তবর্তী একটি জেলা। ভারতের সঙ্গে এ জেলার সীমান্ত দৈর্ঘ্য প্রায় ৭৪ কিলোমিটার। এর মধ্যে ১৮ কিলোমিটার নদী পথ। স্থল সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া থাকলেও তাতে মাদক পাচার আটকানো যাচ্ছে না। ফলে নদীপথ ও অরিক্ষত সীমান্ত দিয়ে আসছে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য। যা হাতবদল হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে সারা দেশে।

২০২১ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের মাদক উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো ৫৬ কোটি ৫৬ লাখ টাকার বেশি মাদক জব্দ করেছে। মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার হয়েছেন প্রায় এক হাজার ৩৭১ জন। এছাড়াও মাদক সেবনের অপরাধে গ্রেফতার হয়েছেন দুই হাজারের বেশি মাদকসেবি। কিন্তু এদের মধ্যে মাদকের কোনো গডফাদার আটক হয়েছেন বলে খবর পাওয়া যায়নি।

এ প্রসঙ্গে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, মাদকসহ হাতেনাতে ধরতে না পারলে তাকে আইনের আওতায় আনা যায় না। ফলে গডফাদাররা ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকে। কারণ তারাতো নিজেদের কাছে মাদকদ্রব্য রাখেন না। তবে মানিলন্ডারিং, দুর্নীতি দমন ও আয়কর আইনে গডফাদারদের ধরার সুযোগ আছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্র বলছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের কিরণগঞ্জ, ভোলাহাট, কানসাট, আজমতপুর, চাকপাড়া, কামালপুর, শিয়ালমারা, ভাটিয়া বিল, তেলকুপি, রঘুনাথপুর, ওয়ায়েহদপুর, জহুরপুর টেক ও ফতেহপুর সীমান্ত দিয়ে ফেনসিডিল, হেরোইন, ইয়াবা ও বিভিন্ন ইনজেকশনসহ পাঁচ ধরনের মাদক পাচার হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে আসা মাদকদ্রব্য হাত বদল হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে সারাদেশে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন থানায় মোট মামলা হয়েছে ৯০৮টি। গ্রেফতার হয়েছেন ১ হাজার ৩৭১ জন। এছাড়াও মাদক সেবনের অপরাধে গ্রেফতার হয়েছে ২ হাজারেরও বেশি মাদকসেবি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৫৯ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল আমির হোসেন মোল্লা বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি দ্বিগুণ করা হয়েছে। মাদকের চোরাচালান বন্ধে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। এজন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে ও সীমান্ত বাসিন্দাদের মধ্যে মাদকবিরোধী সচেতনতায় কাজ করে যাচ্ছি।

এ প্রসঙ্গে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চাঁপাইনবাবগঞ্জের উপপরিচালক মোহাম্মদ আনিছুর রহমান খাঁন বলেন, ভৌগোলিক কারণেই চাঁপাইনবাবগঞ্জ মাদকের ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এটি সীমান্তবর্তী একটি জেলা। পাশের দেশ ভারতের সঙ্গে এ জেলার সীমান্ত দৈর্ঘ্য প্রায় ৫৭ কিলোমিটার। ফলে এখানে মাদকের আগ্রাসনও বেশি। তবে তা কমে এসেছে। মাদক নিয়ন্ত্রণে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যথেষ্ট তৎপর।

তিনি বলেন, মাদকাসক্তি একটি বহুমাত্রিক জটিল সমস্যা। এ ব্যাধি দূর করতে দরকার সমন্বিত কর্মপ্রয়াস। মাদকাসক্তি প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হচ্ছে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলা।

পরিবার ও সমাজজীবন থেকে মাদকাসক্তি নির্মূল করতে হলে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি দরকার মূল্যবোধের জাগরণ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক আন্দোলন। মাদকের চাহিদা কমলে মাদক পাচার কমবে বলে মনে করেন এ কর্মকর্তা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২১ আজকের বাংলা ২৪
Themes customized By Theme Park BD