1. admin@ajkerbangla24.com : admin :
রবিবার, ২২ মে ২০২২, ০১:০৭ পূর্বাহ্ন

ছাত্রী অপহরণে এসিড ছোড়ার ভয় দেখান গাফফার

নিজস্ব প্রতিবেদক, আজকের বাংলা
  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ৮ মার্চ, ২০২২
  • ৩৩ বার পঠিত

ঝিনাইদহের শৈলকূপা থেকে পাঁচ দিন আগে অপহরণ হওয়া এক স্কুল ছাত্রীকে উদ্ধার করেছে র‌্যাব। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শৈলকুপা উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক ও আইনজীবী আবুজার গিফারী গাফফারকে আটক করা হয়েছে।

র‌্যাব বলছে, প্রেমের প্রস্তাবে ওই ছাত্রীকে প্রায় দুবছর ধরে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন আবুজার। সর্বশেষ তাকে অপহরণ করে বিয়ের জোর চাপ দেন তিনি। এতে রাজি না হলে এসিড দিয়ে শিক্ষার্থীর মুখ ঝলসে দেওয়ার হুমকি দেন তিনি।

সোমবার সকালে মানিকগঞ্জ থেকে গাফফারকে গ্রেপ্তারের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য জানতে পেরেছে র‌্যাব। পরে দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন বাহিনীর মুখপাত্র কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

খন্দকার আল মঈন জানান, ভুক্তভোগী মেধাবী কলেজছাত্রী যখন স্কুলে পড়ত তখন থেকেই রাস্তায় ইভটিজিং ও ভয়ভীতি দেখিয়ে হয়রানি করতেন অপহরণকারী আবুজার গিফারী গাফফার। শুধু ইভটিজিংয়েই থেমে থাকেননি গাফফার। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী মেয়ের পরিবারকে বিয়ের জন্য বিভিন্নভাবে চাপ ও হুমকি দিতে থাকেন। মেয়েটির পরিবার বিয়েতে অস্বীকৃতি জানালে গাফফার তাকে অপহরণ করে বিয়ে করার হুমকি দেন। এরই পরিপেক্ষিতে গত ২ মার্চ ঝিনাইদহ আদালত চত্বরে অপহরণের পরিকল্পনা করা হয়। ৫ মার্চ ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার একটি রাস্তা থেকে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যান গাফফার ও তার সহযোগীরা।

গ্রেপ্তার গাফফার বর্তমানে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক। এছাড়া তিনি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য এবং ইবি ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও বঙ্গবন্ধু হল কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থেকে আইনে সর্বোচ্চ ডিগ্রি লাভ করার পর আইন পেশায় যুক্ত ছিলেন।

র‌্যাব জানায়, অপহরণের পর মেয়েটিকে ৩০ ঘণ্টা আটকিয়ে রেখে চারটি জেলায় ঘুরিয়ে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকেন গাফফার। বিয়েতে অস্বীকৃতি জানালে মেয়েটিকে এসিড দিয়ে মুখ ঝলসে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়, যাতে পরবর্তীতে মেয়েটির বিয়ে না হয়। অপহরণের পর ভুক্তভোগীর বাবা ঝিনাইদহ সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে গাফফারের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার পরবর্তীতে র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা, র‌্যাব-৬ ও র‌্যাব-৪ এর যৌথ অভিযানে মানিকগঞ্জের সদর থানা এলাকা থেকে অপহরণ চক্রের মূল পরিকল্পনাকারী আবু জার গিফারী ওরফে গাফফারকে গ্রেপ্তার করেন। এসময় অপহরণের সঙ্গে জড়িত গাফফারের দুজন সহযোগী রাজবাড়ীর সাব্বির হোসেন ও হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে এক কৌটা এসিড সদৃশ্য বস্তু, তিনটি দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

মঈন বলেন, অপহৃত শিক্ষার্থী অত্যন্ত মেধাবী। পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে টেলেন্টপুলে বৃত্তি পায়। পরবর্তীতে এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন-৫ পায় মেয়েটি। তখন তিনি যশোর বোর্ডের মেধা তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করেন। ২০১৯ সাল থেকে গাফফার হয়রানি শুরু করলে মেয়েটি প্রাইভেট ও স্কুলে যেতে পারত না। একটা সময় মেয়েটির বাবা নিজে ও মেয়ের বান্ধবীদের সঙ্গে স্কুল-প্রাইভেটে যেতেন। কিন্তু গত ৫ মার্চ বিকালে ভিকটিম মেয়ে ও তার এক সহপাঠী প্রাইভেট শেষে রিকশাযোগে বাসায় ফিরছিলেন। এ সময় অভিযুক্ত গাফফার শৈলকুপার একটি রাস্তা থেকে ওই শিক্ষার্থীকে মাইক্রোবাসযোগে অপহরণ করে নিয়ে যান। এর প্রেক্ষিতে ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে ঝিনাইদহ সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।

র‌্যাব মুখপাত্র বলেন, এ ঘটনায় দেশব্যাপী ব্যাপক জনরোষের তৈরি হয়। মেধাবী ছাত্রীর পাশে দাঁড়ায় তার সহপাঠীরা। গতকাল (রবিবার) ঝিনাইদহ শহরব্যাপী সারাদিন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ করে অবস্থান করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাবার আর্তনাদ শিরোনামে ঘটনাটি ব্যাপকভাবে একটি সামাজিক আন্দোলনে রুপান্তরিত হয়। এরপরই র‌্যাব অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযানে নামে।

যা জানালেন গাফফার

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত গাফফার র‌্যাবকে জানিয়েছেন, এসএসসিতে খুব ভালো ফলাফল করায় তার ধারণা হয় ভিকটিম নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। মূলত এই কারণেই ভিকটিমকে অপহরণের পরিকল্পনা করেন। ঘটনার দুইদিন আগে ঝিনাইদহ কোর্ট সংলগ্ন এলাকায় গাফফার তার সমমনাদের নিয়ে অপহরণের চূড়ান্ত পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা মোতাবেক ভিকটিমকে প্রাইভেট পড়া থেকে বাসায় যাওয়ার পথে রাস্তা থেকে অপহরণ করেন। পরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখকে ফাঁকি দিতে ভিকটিমকে প্রথমে রাজবাড়ীতে তার এক নিকট আত্মীয়ের বাসায় নিয়ে যান। সেখানে তার দুইজন সহযোগীকে পরিবর্তন করে নতুন দুজন সহযোগীসহ ভিকটিমকে ঢাকায় নিয়ে আসেন। সেখানে আশ্রয় না পেয়ে মাইক্রোবাসযোগে ভিকটিমকে সিলেটে নিয়ে যান।

সিলেটে তাদের অবস্থান পরিবার জেনে যাওয়ায় সেখান থেকে পুনরায় ভিকটিমকে ফরিদপুরের উদ্দেশ্যে রওনা করেন। এরমধ্যে গাফফার ভিকটিমকে এসিড ও দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে ভয়ভীতি দেখান, যাতে কোনো প্রকার চিৎকার চেচামেচি না করেন। এরপর মানিকগঞ্জ থেকে ভিকটিমকে উদ্ধার ও আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। গাফফারের বিরুদ্ধে ঝিনাইদহের বিভিন্ন থানায় বিভিন্ন অপরাধে একাধিক মামলা রয়েছে।

মেয়েটিকে জোর করে গাড়িতে তোলার সময় স্থানীয় ৮-১০ জন অহপরণের ঘটনাটি দেখলেও তারা সেখানে কোনো বাধা প্রদান করেনি। এ ঘটনায় র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, স্থানীয়দের উচিত ছিল সেখানে তাদের বাধা দেওয়া। এতে মেয়েটিকে অপহরণের সুযোগ পেতেন না গাফফার।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২১ আজকের বাংলা ২৪
Themes customized By Theme Park BD