1. admin@ajkerbangla24.com : admin :
মঙ্গলবার, ১৬ অগাস্ট ২০২২, ০৯:৩৬ পূর্বাহ্ন

রাজধানীতে গ্যাস সংকট থাকবে থাকবে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত

আজকের বাংলা ডেস্ক
  • আপডেট সময় : সোমবার, ৪ এপ্রিল, ২০২২
  • ৫৬ বার পঠিত

রমজানের প্রথমদিন রাজধানীর অনেক বাসায় জ্বলেনি চুলা। কোথাও কোথাও চুলা জ্বললেও গ্যাসের চাপ ছিল খুবই কম, যা দিয়ে রান্না করা সম্ভব ছিল না। হঠাৎ করেই এমন সমস্যার ফলে অনেক বাসা-বাড়িতে গতকাল তৈরি হয়নি ইফতারি।

চলমান এই গ্যাস সংকট কাটিয়ে উঠতে আরও কয়েকদিন সময় লেগে যেতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, গ্যাস সরবরাহ সমস্যা সমাধান হতে আরও কয়েকদিন অর্থাৎ ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।

অন্যদিকে প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু ফেসবুক পেজে একটি পোস্টে লিখেছেন, বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ডের জরুরি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বেশকিছু এলাকার গ্রাহকবৃন্দ গ্যাস সংকটে পড়েছেন। অনাকাঙ্ক্ষিত এ ভোগান্তির জন্য আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করছি। আশা করছি দ্রুততম সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানা গেছে, দেশের বড় গ্যাসক্ষেত্রগুলোর মধ্যে বিবিয়ানা অন্যতম। সেই ক্ষেত্রের ছয়টি কূপ থেকে গ্যাস উত্তোলন বন্ধ হয়ে গেছে। এতে ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের জোগানের সংকট তৈরি হয়েছে। যার প্রভাব পড়েছে রাজধানী ঢাকায়। সংকট কাটিয়ে গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক হতে কমপক্ষে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। বিবিয়ানার ছয়টি কূপ থেকে গত শনিবার রাতে গ্যাস উত্তোলনের সময় বালি উঠতে শুরু করে। এ কারণে গ্যাস উত্তোলন কাজ বন্ধ করে দিতে হয়। ওই রাতেই প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সংকট দেখা দেয়। যার প্রভাব পড়ে সরবরাহ ব্যবস্থায়।

রাজধানীর আগারগাঁও, শেওড়াপাড়া, মোহাম্মদপুর, কাফরুল, আদাবর, বনশ্রী, রামপুরা, আজিমপুর, লালবাগ, ধামমন্ডি, সিদ্ধেশ্বরী, কাঁঠালবাগান, মিরপুর, ক্রিসেন্ট রোড, জিগাতলা, শ্যামলী, কল্যাণপুর, এলিফ্যান্ট রোড, গ্রিন রোড, মতিঝিল, সেগুনবাগিচা, নারিন্দা, মিরপুর ১, ২ ও ১০ নম্বর এলাকায় গতকাল গ্যাসের সংকট দেখা দেয়।

তিনি বলেন, কূপ মেরামত করতে কিছুটা সময় লাগবে, ফলে কিছুটা ঘাটতি থেকে যাবে। ৮ এপ্রিল আমাদের একটি এলএনজির কার্গো পৌঁছাবে। এরপর ১০ এপ্রিল নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে।

রমজানে এমন গ্যাস সংকটের বিষয়ে ব্যাপক সমালোচনা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা। গ্রিন রোডের বাসিন্দা খাদিজাতুর তৌহুরা নামের এক গৃহিনী বলেন, মাস গেলেই নিয়মিত গ্যাসের বিল দিতে হয়। কিন্তু প্রায় প্রায় গ্যাসের চাপ থাকে না। এরমধ্যে গতকাল ছিল প্রথম রমজান, কিন্তু বাসায় ইফতারি বানাতে পারিনি। সব বাইরে থেকে কিনে আনতে হয়েছে। রমজান মাসে গ্যাসের সংকটে যে আমাদের কত বড় সমস্যা হয় একথা বোঝানো যাবে না। আজও গ্যাস সংকট, বলতে গেলে গ্যাসের কোনো চাপই নেই।

মোহম্মাদপুর এলাকার বাসিন্দা মোখলেছুর রহমান বলেন, আমার বাসায় সকালের দিকে গ্যাস চলে যায়, পরে ইফতারের কিছু আগে গ্যাস আসলেও চাপ ছিল খুব কম। যা দিয়ে কোনো কিছু রান্না করা সম্ভব হয়নি। আজও গ্যাসের চাপ কম। রমজানের দ্বিতীয় দিনেও বাইরে থেকে কিনে এনে খেতে হবে আমাদের।

শেওড়াপাড়ার বাসিন্দা আব্দুল্লাহ আল মামুন কারওয়ান বাজারের একটি বেসরকারি অফিসে চাকরি করেন। গ্যাস না থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, কাল হঠাৎ দুপুরের পর আমার স্ত্রী ফোন করে বললো ইফতারি বাইরে থেকে কিনে আনতে হবে, বাসায় গ্যাস নেই। যে কারণে অফিস শেষে ইফতারি বাইরে থেকে কিনে নিয়ে বাসায় গেলাম। রাতে গ্যাস এসেছিল কিন্তু চাপ খুব কম ছিল। আজও স্ত্রী ফোন করে জানিয়েছে গ্যাসের চাপ কম। রমজান মাসে ইফতারি সেহেরিসহ কত কিছু থাকে, এরমধ্যে যদি গ্যাস না পাওয়া যায় তাহলে এই ভোগান্তির সমাধান কী?

এদিকে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে- শেভরন পরিচালিত বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ডের জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য হ্রাসকৃত হারে গ্যাস সরবরাহের কারণে বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস স্বল্পতার সৃষ্টি হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২১ আজকের বাংলা ২৪
Themes customized By Theme Park BD